Prothom Alo

0 12

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ০৪-১০-২০১২

একজন বিচারপতি সম্পর্কে স্পিকারের রুলিংয়ের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষের করা আবেদনের বিষয়ে আগামী রোববার আদেশ দেবেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাতজন বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদেশের এ দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে অংশ নেন। আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন রোকনউদ্দিন মাহমুদ।
হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সরকার ৩ সেপ্টেম্বর লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। পরে চেম্বার বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ৩০ সেপ্টেম্বর বিষয়টির শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আজ আদালতের কার্যতালিকায় এলে এর ওপর শুনানি হয়।
একজন বিচারক সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছেন এবং এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, প্রধান বিচারপতি ভেবে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন—স্পিকারের এই রুলিংয়ের আইনগত ভিত্তি নেই বলে হাইকোর্টের দেওয়া রায় ২৭ আগস্ট প্রকাশিত হয়।
জাতীয় সংসদে একজন বিচারপতি সম্পর্কে স্পিকারের দেওয়া রুলিং নিয়ে প্রশ্ন তুলে গত ১৮ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কে এম শফিউদ্দিন ওই রিট আবেদন করেছিলেন। শুনানি নিয়ে গত ২৪ জুলাই আদালত পর্যবেক্ষণসহ আবেদন নিষ্পত্তি করেন। আর হাইকোর্টের রায় প্রকাশের এক সপ্তাহের মাথায় গত ৩ সেপ্টেম্বর লিভ টু আপিল করে সরকার।

সূত্র: প্রথম আলো

0 8

আদালত প্রতিবেদক | তারিখ: ০৪-১০-২০১২

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন তিনি।
মামলায় ছয়জন বিবাদী হলেন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার ওবায়দুল হক, সহকারী পুলিশ কমিশনার বিপ্লব সরকার, অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হারুন-অর-রশিদ।
মামলায় জয়নুল আবদিন ফারুকের সামাজিকভাবে অপমানিত ও সম্মানহানির কারণে পাঁচ কোটি, গুরুতর আঘাত ও হত্যার চেষ্টার জন্য তিন কোটি, পুলিশ কর্তৃক মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য এক কোটি ৮০ লাখ ও চিকিত্সাবাবদ ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
গত বছরের ৬ জুলাই ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনে সংসদ ভবনের সামনে বিরোধীদলীয় ২২ জন সাংসদ পদযাত্রা করেন। এ সময় পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন-অর-রশীদ ও সহকারী কমিশনার বিপ্লব সরকারের নেতৃত্বে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের ঘিরে রাখা হয়। সাংসদেরা এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা জয়নুল আবদিনের হাতে থাকা স্ক্র্যাপ ব্যান্ডেজ টেনেহিঁচড়ে খুলে ফেলেন ও কিল-ঘুষি মারেন। একপর্যায়ে তাঁকে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। হারুন লাঠি দিয়ে জয়নুল আবদিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার বাঁ পাশে গুরুতর আঘাত করেন। একপর্যায়ে তিনি ন্যাম ভবনে আশ্রয় নিলে সেখান থেকে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় এনে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়।
গত বছরের ১০ জুলাই লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সাংসদ এ বি এম আশরাফউদ্দিন নিজান, ঢাকা মহানগর পুলিশের তত্কালীন অতিরিক্ত উপকমিশনার হারুন-অর-রশীদ ও সহকারী কমিশনার বিপ্লব সরকারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর হাকিম হাসিবুল হক তা গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করে দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করা হলে গত ২৭ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে বিচারক জহুরুল হক তা খারিজ করে দেন।
মারধর ও হত্যার চেষ্টার ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি মর্মে পুলিশ প্রতিবেদন দেয়। এতে বলা হয়, হরতালের সময় জয়নুল আবদিন ও মহিলা সাংসদ সৈয়দা আসিফা আশরাফি ওরফে পাপিয়া উসকানিমূলক আচরণ করেন। তখন পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করে। এতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। নালিশি অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও বলা হয়। আদালত তা গ্রহণ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় নালিশি আবেদন খারিজ করে দেন।

সূত্র: প্রথম আলো

ক্রীড়া প্রতিবেদক | তারিখ: ২৯-০৯-২০১২

কেএফসি মহিলা ফুটবলের সুপার লিগে কাল গোল-উৎসব হয়েছে। চার ম্যাচে গোল হয়েছে ৩৫টি। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ আনসার ১৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রাঙামাটিকে। অম্রা চিং মারমা করেছেন ৭ গোল। নুবাই চিং মারমা, রওশন আরা, ফারহানা করেছেন ২টি করে গোল। জাহানারা আক্তার ও সুইনু প্রু মারমার গোল ১টি করে। একই ভেন্যুতে যশোর ৮-০ গোলে হারিয়েছে ঠাকুরগাঁওকে। রেহানা করেছেন ৫ গোল। শারমিন ২টি ও বিলকিস ১টি গোল করেছেন। বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে নারায়ণগঞ্জ ১২-০ গোলে হারিয়েছে নরসিংদীকে। বীথি ৪টি, ইতি ৩টি, আঁখি ২টি করে গোল করেছেন। মিথিলা, পুতুল ও শান্তার গোল ১টি করে। সাতক্ষীরা ও টাঙ্গাইলের ম্যাচটি গেছে গোলশূন্য।

সূত্র: প্রথম আলো

বিদ্যুৎ উৎপাদন আবার জ্বালানিসংকটে পড়েছে। বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় উৎপাদন কম হচ্ছে প্রায় ৯৫০ মেগাওয়াট। আর নতুন তেলচালিত যে কেন্দ্রগুলো আগামী তিন মাসের মধ্যে চালু হওয়ার কথা, সেগুলোর জন্য তেলের সংস্থান নেই।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সূত্রগুলো থেকে এ খবর জানা গেছে।
মাস খানেক আগে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরুর পর বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে দৈনিক প্রায় ১৮ কোটি ঘনফুট। চট্টগ্রামে গ্যাসভিত্তিক সব বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিকসহ তেলচালিত কেন্দ্রগুলো চালাতে এখন প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি টাকার তেল কেনা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত তেলচালিত যে নতুন কেন্দ্রগুলো চালু হওয়ার কথা, সেগুলোর জন্য তেলের কোনো সংস্থান নেই বলে সূত্রগুলো জানায়।
এদিকে জ্বালানিসংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ঢাকাসহ সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। বিশেষ করে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হিসাব করে কিছুটা কম চালানোয় দিনের বেলায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।
সরকার গ্যাসের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ‘মিশ্র জ্বালানিভিত্তিক’ (ফুয়েল মিক্স) করার যে পরিকল্পনা করেছিল, তা ব্যর্থ হওয়ায় এই জ্বালানিসংকটের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু তেলচালিত কেন্দ্র স্থাপন করা ছাড়া সরকারের মিশ্র জ্বালানি ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার বেড়েছে। বেড়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়। এ কারণে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েও ব্যয় সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি পরিস্থিতিও প্রায় আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছে। কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় সমন্বয় করা সম্ভব হতো।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস: বর্তমান সরকারের আমলে এখন পর্যন্ত গ্যাসের উৎপাদন বেড়েছে দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি (৬০০ মিলিয়ন) ঘনফুট। সর্বোচ্চ উৎপাদিত হয়েছে ২৩০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাসের সরবরাহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
২০০৯ সালের শুরুতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহ করা হতো সর্বোচ্চ ৮০ কোটি ঘনফুট (ক্যাপটিভ কেন্দ্র ছাড়া)। গত রমজান মাসে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এখনো করা হচ্ছে প্রায় ৮৩ কোটি ঘনফুট। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও সারা বছর চাহিদা অনুযায়ী বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে সার কারখানায় সরবরাহ করতে গেলেই বিদ্যুতে গ্যাসের সরবরাহ কমাতে হচ্ছে, যা তিন-চার বছর বা তার আগেও করতে হতো।
গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি সমস্যায় পড়েছে চট্টগ্রামে। সেখানে গ্যাসচালিত সব সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র (প্রায় ৫৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার) বন্ধ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে যেটুকু গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তা এখন সার কারখানা, অন্যান্য শিল্প, আবাসিক ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরকারি হিসাবে, সারা দেশে এখন দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি ৫০ কোটি ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে চট্টগ্রামেই ঘাটতি প্রায় এর অর্ধেক, ২৫ কোটি ঘনফুটের মতো। সেখানকার এই ঘাটতি অদূর ভবিষ্যতে কমারও কোনো সম্ভাবনা নেই।
তেলের ব্যবহারও বেড়েছে: গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহারও বেড়েছে। সরকার কয়লা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রভৃতি সাশ্রয়ী জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে না পারায় এই খাতে তেলের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। বিপিসি সূত্র জানায়, গত অর্থবছরের (২০১১-১২) প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) তুলনায় চলতি অর্থবছরের (২০১২-১৩) প্রথম ছয় মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার বেড়েছে এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন।
গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মোট জ্বালানি তেল ব্যবহার করা হয় সাত লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন। এ বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য মোট আট লাখ ৮৯ হাজার টন জ্বালানি তেলের চাহিদা দিয়েছে পিডিবি। এর মধ্যে ফার্নেস তেল সাত লাখ ৯০ হাজার টন এবং ডিজেল ৯৯ হাজার টন।
গত বছরের তুলনায় এ বছর ওই এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল বেশি ব্যবহূত হচ্ছে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করায়। কিন্তু আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসেও প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৬টি তেলচালিত কেন্দ্র চালু হওয়ার কথা। সেগুলো চালু হলে সবগুলো তেলচালিত কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ কারণে নতুন কেন্দ্রগুলো চালু করার ব্যাপারে বেশি তোড়জোর করা হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় মনে করে, আগামী গ্রীষ্মের আগে (মার্চ মাস নাগাদ) এগুলো হলেই চলবে। এর মধ্যে আগামী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে তেল আমদানি বাড়িয়ে সবগুলো তেলচালিত কেন্দ্রে সরবরাহের ব্যবস্থা করা যাবে।
তেল সরবরাহে সমস্যা: সরকার তেলচালিত কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে চললেও সব কেন্দ্রে সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা এখনো করে উঠতে পারেনি। যদিও নৌ, রেল ও সড়কপথে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করার জন্য একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি শুরু থেকেই কাজ করেছে।
তবে রেল ও নৌপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রেলের ইঞ্জিন ও ট্যাংক ওয়াগনের অভাবে তেল সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ভারত থেকে কিছু রেল ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) ও ট্যাংক ওয়াগন ভাড়ায় আনার অনুমতি চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছে। এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে দেশে সর্বোচ্চ সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কম। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন পিডিবি গ্যাস কিনছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকার। তেল কিনছে প্রায় সাড়ে ২৯ কোটি টাকার। কয়লা কিনছে প্রায় দুই কোটি টাকার।

সূত্র: প্রথম আলো

0 7

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি | তারিখ: ২৯-০৯-২০১২

বরসহ চারজন গিয়েছিলেন কনে দেখতে। কনে তাঁদের পছন্দ হয়নি। তবে যৌতুক দিলে বিয়ে হতে পারে বলে আশ্বাস দেন। এমন কথায় চটে যায় কনেপক্ষ। তাঁরা বরসহ চারজনকে পেটান এবং মাথা মুড়িয়ে ঘরে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনাটি রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের। গত বুধবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে গত বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত ২১ ঘণ্টা কনের বাড়িতে বরসহ ওই চারজনকে আটকে রাখা হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শিবপুর গ্রামের আছাব উদ্দিনের ছেলে আবদুল মজিদকে (২৬) নিয়ে তাঁর ভগ্নিপতি আবুল কাশেম, ঘটক আনিছুল হক ও ইয়াছিন আলী বুধবার সন্ধ্যায় মমিনপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের জহুরুল হক ওরফে চরপার বাড়িতে যান।
কনের বাবা জহুরুল হক গতকাল শুক্রবার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, চায়ের দোকান করে সংসার চালান তিনি। মেয়েকে ওই বরের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে ঘটক ও বরের ভগ্নিপতি দুই হাজার টাকা নেন। ওইদিন মেয়ে দেখে খাওয়া-দাওয়া করার পর তাঁরা বলেন, কনে পছন্দ হয়নি। তবে এক লাখ টাকা যৌতুক দিতে হবে। তা না হলে বিয়ে হবে না। একপর্যায়ে প্রতিবেশিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের মারপিট করে মাথার চুল কেটে দেন।
কনের বড় চাচা বলেন, ‘বিয়ে দেওয়ার কথা বলে আগাম টাকা নেয়। আবার মেয়ে দেখতে এসে খাওয়া-দাওয়ার পর বলে মেয়ে পছন্দ হয়নি। টাকা বেশি দিতে হবে। বিয়াতো ছেলে খেলা না। আমরা গরীব হলেও আমাদের সমঞ্চান আছে।’
বৃহস্পতিবার রাতে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কথা হয় বর আব্দুল মজিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মেয়ে দেখার পর তাঁরা (কনেপক্ষ) বিয়ের চাপ দেয়। কিন্তু কনে পছন্দ হয়নি—এমন কথা বলার পরপরই আমাদেরকে ঘরে আটকে রেখে লাঠি দিয়ে পেটায়। পরে চারজনেরই মাথার চুল কেটে দেয়।’
রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ জানান, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ কনের বাড়ি থেকে চারজনকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

0 6

তানভীর সোহেল ও মাসুদ রানা, কাপাসিয়া থেকে | তারিখ: ২৯-০৯-২০১২

গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) উপনির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করলেও তাদের ভোটব্যাংক নিয়ে এখন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর শিবিরে চলছে আলোচনা।
কাল রোববার উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই। নির্বাচনে অংশ নেওয়া তিন প্রার্থী নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
ভোট নিয়ে সরকারি দলের প্রার্থী সিমিন হোসেন রিমির কর্মী-সমর্থকেরা আছেন অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে। কর্মীদের মধ্যে রয়েছে আত্মবিশ্বাস। তাঁরা মনে করছেন, স্থানীয় সব নেতা এক হয়ে কাজ করছেন রিমির জন্য। প্রকাশ্য কোনো কোন্দল নেই। প্রতিদিন বড় বড় জনসভা, মিছিল আর কেন্দ্রীয় নেতাদের সরব উপস্থিতি বলে দিচ্ছে, মাঠে রিমির পাল্লাই ভারী। এত কিছুর পরও বিএনপির সমর্থকদের ভোট নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তবে বিজয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবতে চান না তাঁরা।
সিমিন হোসেন রিমি প্রথম আলোকে বলেন, গণরায় মেনে নিতে প্রস্তুত তিনি। এটাই গণতন্ত্র। জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘এখানে ভোটের পরিবেশ আছে। আশা করছি, কালও তা থাকবে।’
রিমির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত আ.লীগের উপদেষ্টা-মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, উপনির্বাচনে মোট ১২ জন নেতা মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১১ জনই রিমিকে মেনে নিয়েছেন। শুধু আফসারউদ্দীন মেনে নেননি। বিষয়টি এলাকার মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকায় রিমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন বলে মনে করেন তোফায়েল আহমেদ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আফসারউদ্দীন আহমদের কর্মীরা অনেকগুলো ‘যদি’র হিসাব মেলাচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, সবাই যদি ভোট দিতে আসেন, যদি বিএনপির ভোটাররা আফসারকে ভোট দেন, যদি আওয়ামী লীগের একাংশ তাঁকে ভোট দেন, তা হলে আফসারউদ্দীনই বিজয়ী হবেন। এর পাশাপাশি স্বতন্ত্র ওই প্রার্থীর নিজস্ব কিছু ভোটার রয়েছেন।
আফসারউদ্দীন আহমদ প্রথম আলোকে বলেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে তাঁর বিজয় সুনিশ্চিত। কিন্তু এখানে সরকারি দলের লোকজন পাতানো নির্বাচন করবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। আর নির্বাচন পাতানো খেলা হলে, সেই রায় তিনি মানবেন না।
উপনির্বাচনের অপর প্রার্থী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মো. আসাদুল্লাহ বাদল আশা করছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রার্থীকেই ভোটাররা বেছে নেবেন। গতকাল শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেন, এখানে সবার জন্য সমান সুযোগ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
২০০৮-এর নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন। তিনি ভোট পান এক লাখ ১১ হাজার। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী পান ৬৫ হাজার ভোট। ’৯১-এর নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেন। ২০০১-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিতলেও প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ছিল খুবই কম।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা মনে করেন, এই আসনে দুই দলের প্রায় সমান প্রভাব আছে। এবার এখানে মোট ভোটার দুই লাখ ১১ হাজার। সর্বশেষ নির্বাচনে ভোট পড়ে প্রায় ৯২ শতাংশ। তবে এবার ভোটার উপস্থিতি কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদ তানজীম আহমদ সোহেল তাজের পদত্যাগের কারণে আসনটি শূন্য হয়। শূন্য আসনে উপনির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন সোহেল তাজের বড় বোন সিমিন হোসেন ও ছোট চাচা আফসারউদ্দীন।
ছুটি নেই কর্মস্থলে, অনেকেই ভোট দিতে পারবেন না: ভোট উপলক্ষে রোববার কাপাসিয়ায় সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার শ্রমজীবী মানুষের একটি বড় অংশ কাজ করে গাজীপুর, টঙ্গী, কালিয়াকৈর ও রাজেন্দ্রপুর এলাকায়। এ ছাড়া ঢাকায়ও অসংখ্য মানুষ কাজ করে। কাপাসিয়ায় ছুটি থাকলেও নিজ নিজ কর্মস্থলে ছুটি না থাকায় এসব ভোটার ভোট দিতে পারবেন না।
তরগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা লিমন হোসেন টঙ্গীতে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের কারখানা কেবল শুক্রবার বন্ধ থাকে। ভোট দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তাঁর পক্ষে কেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব হবে না। ভোটের কথা কারখানা কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা একই গ্রামের নয়জন সেখানে কাজ করি। স্যাররা বলেছেন, এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ কিছু না।’

সূত্র: প্রথম আলো

0 7

কামরুল হাসান ও হরি কিশোর চাকমা, রাঙামাটি থেকে | তারিখ: ২৯-০৯-২০১২

চাঁদাবাজির কারণে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত রাঙামাটির মানুষ। ছোট-বড় কোনো ব্যবসায়ীই চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা করতে পারছেন না। চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটছে।
সর্বস্তরের ব্যসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি সংস্থা, ক্ষমতাসীন দলের লোক, জনসংহতি সমিতির (জেএএস) দুই পক্ষ ও তাদের বিপক্ষের দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)—সবাই নিয়মিত চাঁদা নিচ্ছে।
কথা হলো চাঁদাবাজির শিকার কাঠের আসবাবপত্র বিক্রেতা আমির আলীর সঙ্গে। কোথায় কত টাকা দিতে হয়, হিসাব তাঁর মুখস্থ। বললেন, এক সেট আসবাবপত্রের (ফার্নিচার) জন্য রাঙামাটির মানিকছড়িতে বন বিভাগের চেকপোস্টে চাঁদা দিতে হয় ১০০ টাকা, ঘাগড়ায় ১৫০, রাবার বাগানে ৫০, রাউজানে ১৫০ ও হাটহাজারিতে ১৫০ টাকা। এরপর আছে চট্টগ্রামের কাটা পাহাড়ে ট্রাকপ্রতি দুই হাজার টাকা, রাণীরহাটে ২০০, মাদামবিবিতে ১৫০, ফৌজদারহাটে ২০০, মেঘনাঘাটে ১৫০ টাকা। পুলিশ, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর নামে পথে পথে চাঁদাবাজি তো আছেই।
আমির আলীর মতে, সব মিলিয়ে এক ট্রাকের জন্য চাঁদা দিতে হয় কমপক্ষে ৯০ হাজার টাকা। কথা বলার সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ট্রাকচালক হাবিবুর রহমান। তিনি বললেন, রাঙামাটি সীমানা পার হতে পাঁচবার গাড়ি থামায় পুলিশ ও বন বিভাগের লোকজন। চাঁদা না দিলে মালামাল আটক করে অথবা কাগজপত্র নেই বলে রাঙামাটিতে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান প্রথম আলোকে বলেন, দল চালাতে চাঁদা নেওয়া যায়। তবে দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জেলা পুলিশ সুপারের দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেল, গত আড়াই বছরে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার কারণে ৭৫টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে নিহত হয়েছে ৮৭ জন। এ বছরের আট মাসে ১৮টি গোলাগুলির ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। আর গত দুই মাসেই ৫২ জন অপহূত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও অনেকে। এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধ।
ইউপিডিএফের মুখপাত্র ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মাইকেল চাকমা বলেন, ‘আমরা জনগণের চাঁদায় চলি। কিন্তু আমরা চাঁদাবাজি করি না। পাহাড়ে যে সহিংস ঘটনা ঘটছে, সেটা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব।’
লেক আর পাহাড়ঘেরা ছোট্ট শহর রাঙামাটির রাস্তায় হাঁটলেই চোখে পড়ে দুই পাশে সারি সারি আসবাবের দোকান। এসব দোকানে তৈরি হচ্ছে দামি সেগুন কাঠের চোখধাঁধানো সব আসবাব। প্রতিটি দোকানেই রয়েছে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্রের ক্যাটালগ।
কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের হিসাবমতে, শুধু রাঙামাটি শহরেই এমন ৩০০ দোকান আছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত দোকান কেন? এত আসবাব কেনে কারা? এই প্রশ্নের জবাব মিলল আসবাবপত্র ব্যবসায়ী সোলায়মান হোসেনের কাছে। তিনি বললেন, ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত এখান থেকে মূল্যবান কাঠ আর আসবাবপত্র নিয়ে যাচ্ছেন।
পার্বত্য এলাকা থেকে এভাবে কাঠ ও আসবাব নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এসব নেওয়ার নিয়ম নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, বদলি অথবা ব্যবহূত আসবাবের অজুহাত দেখিয়ে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনুমতি দেন। প্রতিটি আসবাবের জন্য তাঁরা ‘উপরি’ও আদায় করেন।
বন বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা নিজের মুখে এসব স্বীকার করলেও নাম প্রকাশ করতে চাননি। রাঙামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক রিজাউল শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাঁদাবাজি হতে পারে, তবে সেটা আমার জানা নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, আসবাবের চোরাই কাঠের ব্যবসা রাঙামাটিতে সবচেয়ে জমজমাট। ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা এই ব্যবসা থেকে চাঁদাবাজি করছেন। জাহাঙ্গীর নামের একজন কাঠ ব্যবসায়ী বলেন, জেএসএসের কর্মীরা সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তা দেওয়া না হলে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাঠ আহরণ ও পরিবহনে বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা ১৫ দিন কাঠ কেনাবেচা বন্ধ রাখেন।
জানতে চাইলে রাঙামাটি স-মিল মালিক সমিতির নেতা মোস্তফা আহমেদ চৌধুরী বলেন, রাঙামাটিতে ১৫টি স-মিল আছে, প্রতিটি মিলকে নির্ধারিত চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে হুমকি দিয়ে কাঠ সরবরাহ বন্ধ করা হয়।
জেলার গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানায়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির দুই পক্ষ ও ইউপিডিএফের সদস্যরা গত বছর প্রায় ২৫ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছেন। এসব চাঁদাবাজির ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মাছ ধরার নৌকা, মৌসুমি ফলমূল, কাঠ, বাঁশ, করাতকল, বাস, ট্রাক, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন ও নৌপথের বিভিন্ন যানবাহন।
জনসংহতি সমিতির নেতা উষাতন তালুকদার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘জনসংহতি সমিতির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করা হতে পারে। তবে জনসংহতি সমিতি জড়িত নয়। যারা চাঁদাবাজি করে, তাদের ধরা হোক। আমরা সব সময় চাঁদাবাজির বিপক্ষে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম সম-অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কামাল বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য করলেই চাঁদা দিতে হবে। তবে আগে যেমন কথাবার্তা বলে চাঁদার পরিমাণ কমানো যেত, এখন আর তা হয় না। এখন চাঁদা দিতে হয় কোনো কাজের জন্য নির্ধারিত ব্যয়ের শতাংশ হিসাবে। এখন সাধারণ বাঙালিরাও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে, যা আগে ছিল না।
রাঙামাটি শহরে কোনো রিকশা নেই। এখানে অটোরিকশা হলো চলাচলের একমাত্র ভরসা। এই শহরে প্রায় এক হাজার অটোরিকশা আছে। আবদুস সালাম নামের এক অটোচালক চাঁদার একটি রসিদ দেখিয়ে বললেন, এক বছরে প্রতিটি অটোর জন্য জেএসএসকে ৭০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে জেএসএসের সদস্যরা রিকশা চালাতে দেন না।
রাঙামাটি থেকে ছয়টি উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র পথ হলো লঞ্চ। প্রতিদিন পাঁচটি রুটে ৫০টি যাত্রিবাহী লঞ্চ চলাচল করে। প্রতিটি লঞ্চকে বাৎসরিক চাঁদা দিতে হয়।
লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম হায়দার এসব অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, পাহাড়ের সঙ্গে যেসব লঞ্চ চলাচল করে, তাদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। এসব চাঁদাবাজিতে কোনো রাখঢাক নেই। সবকিছু হচ্ছে প্রকাশ্যে।
সূত্র জানায়, দেশে মিঠা পানির মাছের একটি বড় উৎস হলো কাপ্তাই লেক। প্রতিদিন মণ মণ মাছ এই লেক থেকে ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এ জন্য শতাধিক মাছের আড়ত গড়ে উঠেছে রাঙামাটি, কাপ্তাই ও মহালছড়িতে।
মাছ ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হাবিবুর রহমান বললেন, মাছ ব্যবসার জন্য বাৎসরিক চাঁদা ধার্য করে দেওয়া হয়েছে। না দিলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের এই সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি সম্পর্কে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘আমাদের দলের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেলে শাস্তির ব্যবস্থা করব।’
জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ উল ইসলাম বললেন, সারা দেশের চিত্রের সঙ্গে এখানকার অবস্থার মিল নেই। পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও অপহরণের ঘটনা হচ্ছে। এ অঞ্চলের মানুষ এ থেকে কীভাবে মুক্তি পাবে, সেটাই এখন ভাবনার বিষয়।

সূত্র: প্রথম আলো

0 9

বিশেষ প্রতিনিধি | তারিখ: ২৯-০৯-২০১২

বিদ্যুৎ উৎপাদন আবার জ্বালানিসংকটে পড়েছে। বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় উৎপাদন কম হচ্ছে প্রায় ৯৫০ মেগাওয়াট। আর নতুন তেলচালিত যে কেন্দ্রগুলো আগামী তিন মাসের মধ্যে চালু হওয়ার কথা, সেগুলোর জন্য তেলের সংস্থান নেই।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সূত্রগুলো থেকে এ খবর জানা গেছে।
মাস খানেক আগে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরুর পর বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে দৈনিক প্রায় ১৮ কোটি ঘনফুট। চট্টগ্রামে গ্যাসভিত্তিক সব বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিকসহ তেলচালিত কেন্দ্রগুলো চালাতে এখন প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি টাকার তেল কেনা হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত তেলচালিত যে নতুন কেন্দ্রগুলো চালু হওয়ার কথা, সেগুলোর জন্য তেলের কোনো সংস্থান নেই বলে সূত্রগুলো জানায়।
এদিকে জ্বালানিসংকটের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে ঢাকাসহ সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। বিশেষ করে তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হিসাব করে কিছুটা কম চালানোয় দিনের বেলায় লোডশেডিং বেশি হচ্ছে।
সরকার গ্যাসের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ‘মিশ্র জ্বালানিভিত্তিক’ (ফুয়েল মিক্স) করার যে পরিকল্পনা করেছিল, তা ব্যর্থ হওয়ায় এই জ্বালানিসংকটের সৃষ্টি হয়েছে। কিছু তেলচালিত কেন্দ্র স্থাপন করা ছাড়া সরকারের মিশ্র জ্বালানি ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার বেড়েছে। বেড়েছে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়। এ কারণে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েও ব্যয় সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি পরিস্থিতিও প্রায় আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছে। কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো গেলে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় সমন্বয় করা সম্ভব হতো।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস: বর্তমান সরকারের আমলে এখন পর্যন্ত গ্যাসের উৎপাদন বেড়েছে দৈনিক প্রায় ৬০ কোটি (৬০০ মিলিয়ন) ঘনফুট। সর্বোচ্চ উৎপাদিত হয়েছে ২৩০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও গ্যাসের সরবরাহ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
২০০৯ সালের শুরুতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন গ্যাস সরবরাহ করা হতো সর্বোচ্চ ৮০ কোটি ঘনফুট (ক্যাপটিভ কেন্দ্র ছাড়া)। গত রমজান মাসে সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এখনো করা হচ্ছে প্রায় ৮৩ কোটি ঘনফুট। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লেও সারা বছর চাহিদা অনুযায়ী বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে সার কারখানায় সরবরাহ করতে গেলেই বিদ্যুতে গ্যাসের সরবরাহ কমাতে হচ্ছে, যা তিন-চার বছর বা তার আগেও করতে হতো।
গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশি সমস্যায় পড়েছে চট্টগ্রামে। সেখানে গ্যাসচালিত সব সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র (প্রায় ৫৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার) বন্ধ হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে যেটুকু গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তা এখন সার কারখানা, অন্যান্য শিল্প, আবাসিক ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরকারি হিসাবে, সারা দেশে এখন দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি ৫০ কোটি ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে চট্টগ্রামেই ঘাটতি প্রায় এর অর্ধেক, ২৫ কোটি ঘনফুটের মতো। সেখানকার এই ঘাটতি অদূর ভবিষ্যতে কমারও কোনো সম্ভাবনা নেই।
তেলের ব্যবহারও বেড়েছে: গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহারও বেড়েছে। সরকার কয়লা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রভৃতি সাশ্রয়ী জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে না পারায় এই খাতে তেলের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। বিপিসি সূত্র জানায়, গত অর্থবছরের (২০১১-১২) প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) তুলনায় চলতি অর্থবছরের (২০১২-১৩) প্রথম ছয় মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার বেড়েছে এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন।
গত অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মোট জ্বালানি তেল ব্যবহার করা হয় সাত লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন। এ বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য মোট আট লাখ ৮৯ হাজার টন জ্বালানি তেলের চাহিদা দিয়েছে পিডিবি। এর মধ্যে ফার্নেস তেল সাত লাখ ৯০ হাজার টন এবং ডিজেল ৯৯ হাজার টন।
গত বছরের তুলনায় এ বছর ওই এক লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল বেশি ব্যবহূত হচ্ছে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো থেকে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করায়। কিন্তু আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসেও প্রায় এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৬টি তেলচালিত কেন্দ্র চালু হওয়ার কথা। সেগুলো চালু হলে সবগুলো তেলচালিত কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ কারণে নতুন কেন্দ্রগুলো চালু করার ব্যাপারে বেশি তোড়জোর করা হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় মনে করে, আগামী গ্রীষ্মের আগে (মার্চ মাস নাগাদ) এগুলো হলেই চলবে। এর মধ্যে আগামী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে তেল আমদানি বাড়িয়ে সবগুলো তেলচালিত কেন্দ্রে সরবরাহের ব্যবস্থা করা যাবে।
তেল সরবরাহে সমস্যা: সরকার তেলচালিত কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়ে চললেও সব কেন্দ্রে সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা এখনো করে উঠতে পারেনি। যদিও নৌ, রেল ও সড়কপথে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করার জন্য একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি শুরু থেকেই কাজ করেছে।
তবে রেল ও নৌপথের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রেলের ইঞ্জিন ও ট্যাংক ওয়াগনের অভাবে তেল সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ভারত থেকে কিছু রেল ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) ও ট্যাংক ওয়াগন ভাড়ায় আনার অনুমতি চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছে। এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে দেশে সর্বোচ্চ সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে সাড়ে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কম। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন পিডিবি গ্যাস কিনছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকার। তেল কিনছে প্রায় সাড়ে ২৯ কোটি টাকার। কয়লা কিনছে প্রায় দুই কোটি টাকার।

সূত্র: প্রথম আলো

0 8

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও অন্য দাতা সংস্থাগুলোর সংস্কারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৬৭তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এই সংস্কারের কথা বলেন।
সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। তখন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, হিযবুত তাহরীর, লস্কর-ই-তৈয়বাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রায় প্রতিদিনই বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালাত। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশ থেকে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতা-কর্মীদের নিশ্চিহ্ন করা।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমিও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এক ভয়াবহ গ্রেনেড আক্রমণের শিকার হই। তখন আমি ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলাম। এতে ২৪ জন নেতা-কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। আমি অলৌকিভাবে বেঁচে যাই।’ তিনি বলেন, ‘এসব ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে দেশকে রক্ষার লক্ষ্যে আমরা সন্ত্রাস ও সকল প্রকার চরমপন্থার বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছি।’
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৬৭তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হুবহু ভাষণটি পাঠকদের জন্য তুলে দেওয়া হলো:

সম্মানিত সভাপতি,
আসসালামু আলাইকুম। শুভ অপরাহ্ন।
১. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৭তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। ইউএনজিএর ৬৬তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য জনাব নাসির আবদুল আজিজ আল-নাসেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। জাতিসংঘ বিগত বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল উদ্যোগ গ্রহণ করায় আমি মহাসচিব বান কি মুনকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

সম্মানিত সভাপতি,
২. বর্তমান বিশ্ব গণজাগরণ, আন্তঃদেশীয় সংঘর্ষ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ, বৈশ্বিক আর্থিক সংকট, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সন্ত্রাসবাদ প্রভৃতি প্রত্যক্ষ করছে। এসব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাই আমি এবারের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য “শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্তর্জাতিক বিরোধ বা পরিস্থিতি নিষ্পত্তিকরণ”-এর প্রশংসা করছি।

৩. এখানে আমি আমার বাবা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করছি, যিনি আজ থেকে ৩৮ বছর আগে এ মঞ্চে দাঁড়িয়েই “সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরিতা নয়”, “সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান”, “আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের অবসান” এবং “বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় অবদান”-এর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁর এই নীতি দেশে-বিদেশে মূলতঃ ন্যায়বিচার ও শান্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা আমাকে ১৯৯৭ সালে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম মেয়াদে, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সম্পাদনে অনুপ্রাণিত করেছে। ফলে ২০ বছরের দ্বন্দ্ব-সংঘাতে ২০ হাজার প্রাণবধের অবসান হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর এ নীতিই আমাকে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারীতে বর্ডার গার্ড বিদ্রোহ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে প্রেরণা যুগিয়েছে।

৪. আমরা বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেই। তাই ১৯৯৬ সালে ভারতের সাথে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ২৫ বছরের পুরোনো সমস্যার সমাধান করেছি। ১৯৭৪ সালে সম্পাদিত স্থল সীমানা চুক্তির আওতায় ২০১১ সালে প্রটোকল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ৬৪ বছর ধরে অনিষ্পন্ন ইস্যুর নিষ্পত্তি করেছি। একটি যৌথ নদীর ওপর ভারতের প্রস্তাবিত ড্যাম নির্মাণের বিষয়ে পারস্পরিক উদ্বেগ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। আমাদের অপর প্রতিবেশী মিয়ানমারের সাথে “ইটলস”-এর মাধ্যমে ৪১ বছরের পুরোনো সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করেছি।

৫. শান্তির প্রতি আমাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আরেকটি প্রমাণ হচ্ছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আমরা অন্যতম সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি স্থাপন কমিশনেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে আমরা গত ২৫ সেপ্টেম্বর “শান্তিস্থাপন: টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তার চাবিকাঠি” শীর্ষক একটি সভা করেছি। আপনাদের অনেকেই এতে অংশগ্রহণ করেছেন। মানবাধিকার কাউন্সিল ও “ইকোসোক” এর সদস্য হিসেবে আমরা ন্যায়বিচার, শান্তি, গণতন্ত্র, লিঙ্গসমতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, আইনের শাসন, সংখ্যালঘু ও অসহায় মানুষের অধিকারকে প্রাধান্য দেই। ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ, ইউএনওপিএস, ইউনেস্কো, এফএও, আইএমও ও ইউপিইউ’র সদস্য হিসেবে বিশ্ব রীতি-নীতি ও মান নিরূপণকে সমর্থন করি।

৬. চার দশকের জনকল্যাণমূলক রাজনীতির মাধ্যমে আমি জেনেছি যে ন্যায়বিচার বিরাজ করলেই শান্তি স্থাপিত হয়। এটা দেশের অভ্যন্তরে এবং এক রাষ্ট্রের সাথে অপর রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। একমাত্র ন্যায়বিচারই শান্তি নিশ্চিত করে, যা উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব যা জনগণকে ক্ষমতাশালী করে। গণতন্ত্রের পর্যায়ক্রমিক অনুপস্থিতির অর্থ হচ্ছে সামাজিক অবিচার, দারিদ্র্য, বৈষম্য, বঞ্চনা এবং অসহায়ত্ব। এটি চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয়। আমরা তাই সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, টেকসই প্রবৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সন্ত্রাস দমন করছি। ফলে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও বঞ্চনা দূরীভূত হচ্ছে। জনগণের ক্ষমতায়ন হচ্ছে। গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার সুদৃঢ় হচ্ছে।

৭. এ অনন্য সাফল্য আমাকে ইউএনজিএ’র ৬৬তম অধিবেশনে “জনগণের ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন” মডেল উপস্থাপন করতে উত্সাহিত করেছে। ৬টি পরস্পর ক্রিয়াশীল বিষয় এই মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়গুলো হচ্ছে, (১) ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নির্মূল, (২) বৈষম্য হ্রাস, (৩) বঞ্চনা লাঘব, (৪) কর্মযজ্ঞে সকলকে সম্পৃক্তকরণ, (৫) মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ এবং (৬) সন্ত্রাস নির্মূল। আমাদের এ প্রস্তাব গত বছর ইউএনজিএ’র ৬৬/২২৪ নম্বর সিদ্ধান্ত হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। মডেলটি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে আমরা এ বছরের ৫ ও ৬ আগস্ট ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করেছি। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ৬২টি দেশ ইউএনজিএ’র ৬৭তম অধিবেশনে মডেলটি বিবেচনার জন্য সমর্থন দিয়েছে। এই সকল দেশকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মডেলটির ব্যাপক প্রচারণার জন্য আমি আপনাদের সমর্থন কামনা করি।

৮. জনগণের ক্ষমতায়নে আমাদের নানামুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচন পরবর্তী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সবগুলো সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমানে কমিটির সংখ্যা ৫০টি। যার অনেকগুলোতে বিরোধী দলের এমপিদের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আমরা জাতীয় সংসদে “প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর” পর্ব চালু করেছি। নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করেছি। তথ্য কমিশন গঠন করেছি। স্বাধীন ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করেছি। জনগণের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে মানবাধিকার, জবাবদিহিতা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক মাল্টি-মোডাল সংযোগ নিয়ে অগ্রসর হয়েছি। আমরা মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ করেছি। নির্বাচন কমিশন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হওয়ায় এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৫ হাজার ১৮২টি নির্বাচনই সম্পূর্ণ অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়েছে। মিডিয়া এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন। দেশে বর্তমানে ২৪টি টিভি চ্যানেল, ৭টি বার্তা সংস্থা, ১১টি এফএম ও ১৪টি কম্যুনিটি রেডিও স্টেশন চালু আছে। ৩২০টি দৈনিক ও ১৫১টি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে।

৯. শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে জনগণের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য্য। ন্যায়বিচার হচ্ছে এর ভিত্তি। তাই সর্বক্ষেত্রে নারীর সমান ভূমিকা থাকা উচিত। নারীর ক্ষমতায়নকে বেগবান করার লক্ষ্যে নতুন শিক্ষানীতির আওতায় মেয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক করা হয়েছে। আমাদের জাতীয় জীবনেও নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণকে উত্সাহিত করা হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলা হয়েছে। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংরক্ষিত আসনে ১২ হাজার ৮৩৮ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় সংসদে ৬৯ জন সদস্য নারী। যা মোট সংসদ সদস্যের প্রায় ২০ শতাংশ। আমি নিজে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা, বিরোধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, পাঁচজন মন্ত্রী ও একজন হুইপ নারী। সরকারী চাকুরীর ৩০ শতাংশ পদ নারীর জন্য সংরক্ষিত। বেশকিছু নারী কর্মকর্তা বিচার বিভাগ, প্রশাসন, কূটনীতিক পর্যায়ে উচ্চ পদে নিয়োজিত আছেন। সামরিক বাহিনী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী হিসেবেও নারীরা সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

১০. বর্তমান সরকারের মেয়াদে জনগণের ক্ষমতায়নে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দারিদ্র্য ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। মাথাপিছু আয় ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক থেকে কমে ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। যা ২০০৮-এ ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ। সরকারী খাতে ৫ লাখ এবং বেসরকারী খাতে ৭৫ লাখ কর্মসংস্থান হয়েছে। রপ্তানি প্রবৃৃদ্ধি হার ১৯ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে রফতানি আয় ১ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার থেকে ২০১১-১২ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৩০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। ১৮ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে রেমিটেন্স বেড়েছে। গত অর্থবছরে প্রায় ১২শ’ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে। সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ই-সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সমপ্রসারণ করা হয়েছে। প্রায় শতভাগ শিশুর স্কুলে ভর্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গসমতা অর্জিত হয়েছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী ও শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে পল্লী এলাকায় ১২ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা ও অভিযোজনের লক্ষ্যে “ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড” গঠন করা হয়েছে। আমাদের এসব উদ্যোগের ফলে ২০১৫ সালের আগেই লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক এমডিজি-৩, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাস সংক্রান্ত এমডিজি-৪ ও এমডিজি-৫ অর্জন সম্ভব হয়েছে।

১১. এ সাফল্যের জন্য আমরা এমডিজি পদক, সাউথ-সাউথ পদক ও এফএও এওয়ার্ড পেয়েছি। যা আমাদের অর্জনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুন পুষ্টি আন্দোলনকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে আমাকে লিড গ্রুপের একজন সদস্য এবং “এডুকেশন ফার্স্ট ইনিসিয়েটিভ” এর চ্যাম্পিয়ান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এমডিজি-পরবর্তী ডিভালাপমেন্ট এজেন্ডার ওপর তাঁর “হাই লেভেল প্যানেল” গঠনকে আমরা স্বাগত জানাই। এসব এজেন্ডা এসডিজি’র সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে বলে আশা করি। যার মাধ্যমে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, পুষ্টি, বিশ্ব খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব অগ্রাধিকার পাবে।

১২. আমি আশা করি, “হাই লেভেল প্যানেল” অটিস্টিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু যারা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক শতাংশ, তাদের বেদনাদায়ক দুর্দশা লাঘবে একটি অবস্থানপত্র প্রণয়ন করবেন। আমরা দেশে ৫৫টি বিশেষ সহায়ক স্কুল ও একটি নিউরোডেভেলপমেন্ট সেন্টার চালু করেছি। আমরা ২০১১ সালের জুলাইয়ে ডব্লিউএইচও ও অটিজম স্পিকস এর সহযোগিতায় গ্লোবাল পাবলিক হেলথ ইনিসিয়েটিভ চালু করেছি। ইউএনজিএ’র চলতি অধিবেশনে আমরা “অটিজম স্পেক্ট্রাম ডিসঅর্ডার” বিষয়ক একটি প্রস্তাব উত্থাপন করব। আমি আশা করি, এ প্রস্তাব গ্রহণে আপনাদের সমর্থন পাব।

১৩. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের উন্নয়ন উদ্যোগগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে দারিদ্র্য, সম্পদহানি ও মানব স্থানচ্যুতি হচ্ছে। যা সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিচ্ছে। সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে স্থানচ্যুত অভিবাসীরা গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি নতুন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত—যা জলবায়ু অভিবাসীদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করবে। এ বিষয়টি আমি ইউএনজিএ’র ৬৪তম অধিবেশনে উত্থাপন করেছিলাম। গত বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জোট “ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম”-এর বৈঠকেও এ ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বাংলাদেশ গতকাল নিউইয়র্কে ক্লাইমেট ভালনারেবিলিটি মনিটরের দ্বিতীয় বৈঠক করেছে। সাধারণ ও বিশেষ দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করছি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের জন্য “গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড” এর দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই।

১৪. বিশ্ব খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ব্যাপক অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে। যা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তায় আরো বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের বাজারে এলডিসি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং ওডিএ প্রতিশ্রুতি পূরণ অত্যাবশ্যক। ব্রেটন উডস্ ইনস্টিটিউশনস ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সব দেশে শ্রমিকের অবাধ চলাচল নিশ্চিতের বিষয়গুলোও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশগুলোর সুবিধা নিশ্চিতে “জিএটিএস” এর মুড-ফোর আশু বাস্তবায়ন প্রয়োজন। নিরাপদ অভিবাসন এবং নারীসহ অভিবাসী কর্মজীবীদের অধিকার সংরক্ষণে অভিবাসী প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী দেশগুলোর যৌথ দায়িত্ব ডব্লিউটিও নীতির অংশ করা উচিত।

সম্মানিত সভাপতি,
১৫. ফিলিস্তিন জনগণের ওপর ইসরাইলের নগ্ন অবিচার, হত্যা, নির্যাতন ও অবমাননা মানব ইতিহাসে এক লজ্জাজনক অধ্যায়। এসব অবিচার ফিলিস্তিন ও অন্যান্য স্থানে গভীর হতাশার সৃষ্টি করে। যা সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দেয়। ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে ফিলিস্তিন সমস্যা ও একই ধরনের জ্বলন্ত ইস্যুগুলোর আশু সমাধান অত্যন্ত জরুরী।

১৬. বাংলাদেশও ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। তখন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ, হিজবুত তাহরির, লস্কর-ই-তৈয়বাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রায় প্রতিদিনই বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালাতো। এসব হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল, দেশ থেকে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতাকর্মীদের নিশ্চিহ্ন করা। এসব সন্ত্রাসী হামলার মধ্যে আছে, ২০০২ সালের ৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে বোমা হামলায় ১৯ জন নিহত। ২০০৪ সালের ২১ মে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলা। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট আধা ঘণ্টায় দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টি জেলার পাঁচশ’ স্থানে বোমা বিস্ফোরণ। গ্রেনেড ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে আমাদের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও এসকাপের প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক এসএএমএস কিবরিয়া এমপি, শ্রমিক নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার এমপি, মমতাজউদ্দিন এমপি এবং কোর্ট চত্ত্বরে দুইজন জনপ্রিয় বিচারক হত্যা।

১৭. আমিও ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এক ভয়াবহ গ্রেনেড আক্রমণের শিকার হই। তখন আমি ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলাম। এতে ২৪ জন নেতা-কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। আমি অলৌকিভাবে বেঁচে যাই। বাঙালি জাতি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একটি ভিন্নধর্মী সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়। সেদিন কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য আমার বাবা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আমাদের পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করাই ছিল হত্যাকারীদের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কময় এ দিনে আমার ছোট বোন শেখ রেহানা ও আমি বিদেশে ছিলাম। ফলে প্রাণে বেঁচে যাই। এসব ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে দেশকে রক্ষার লক্ষ্যে আমরা সন্ত্রাস ও সকল প্রকার চরমপন্থার বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছি।

সম্মানিত সভাপতি,
১৮. আমি জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য রাষ্ট্রের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে জাতিসংঘ, ব্রেটন উডস ইনস্টিটিউশনস ও অন্যান্য বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংস্কারের বিষয়ে পুনরায় গুরুত্ব আরোপ করছি। এসব প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ৬০ বছরের পুরোনো ক্ষমতার সমীকরণের প্রতিফলন। যেখানে অধিকাংশ দেশের স্বার্থ উপেক্ষিত থাকে এবং কয়েকটি বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের স্বার্থ রক্ষা হয়। নতুন সহস্রাব্দে বেশকিছু স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং বিশ্বায়ন একটি পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ার সুযোগ এনে দিয়েছে। আজ আমরা ন্যায়বিচার, সমতা, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারছি। এ সবই আমাদের অগ্রাধিকার। অতীতের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা ভুলে সবার এখন সেই লক্ষ্যে কাজ করা উচিত। নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা অবশ্যই ন্যায়বিচার, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে হতে হবে। যার মাধ্যমে শান্তিময় বিশ্ব গড়ে উঠবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেটিই হবে আমাদের শ্রেষ্ঠ উপহার।

সম্মানিত সভাপতি, আপনাকে আবারো ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবাইকে ধন্যবাদ।

খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। জাতিসংঘ দীর্ঘজীবী হোক।

সূত্র: প্রথম আলো

0 6

পটুয়াখালী অফিস | তারিখ: ২৮-০৯-২০১২

পটুয়াখালী সেতুর টোলঘর এলাকায় আজ শুক্রবার সকালে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৩০টি ছোট-বড় কাছিম ও দুই মণ কুঁচে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও মত্স্য বিভাগের কর্মকর্তারা এই অভিযান চালান।
এসব কাছিম ও কুঁচে পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছিল। এ সময় বাসের সুপারভাইজার মো. মনিরুজ্জামানকে আটক করা হয়।
বন বিভাগ কার্যালয় সূত্র জানায়, সকাল আটটায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে সুগন্ধা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সাড়ে ১০টার দিকে বাসটি পটুয়াখালী সেতুর টোলঘরে পৌঁছার পর পুলিশের সহযোগিতায় মত্স্য বিভাগের কর্মকর্তারা বাসটিতে তল্লাশি চালান। তাঁরা এ সময় ড্রামে ভর্তি কাছিম ও কুঁচে উদ্ধার করেন। পুলিশ ও মত্স্য বিভাগ থেকে খবর পেয়ে বন বিভাগের সদর উপজেলার রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার করা কাছিম ও কুঁচে জব্দ করেন।
রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, এ ঘটনায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। কাছিম ও কুঁচে নদীতে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: প্রথম আলো